• +91 6291642485
  • 6291642485
Banner

খেলার বিভাগ > ক্রিকেট

নিলামে রেকর্ড গড়ে কলকাতায় গ্রিন

২৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনল তারা।

আইপিএলে আবার রেকর্ড গড়ল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ক্যামেরন গ্রিনকে ২৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনল তারা। গ্রিনকে নিতে যে লড়াই হবে সেই ইঙ্গিত আগে থেকেই পাওয়া গিয়েছিল। কারণ, ছোট নিলামে যে অলরাউন্ডাররা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তিনিই।
গ্রিনকে নিতে যে কেকেআর ও চেন্নাই সুপার কিংস ঝাঁপাবে সেটাও বোঝা গিয়েছিল। কারণ, আন্দ্রে রাসেলকে ছেড়ে দিয়েছে কেকেআর। চেন্নাই ছেড়েছে স্যাম কারেনকে। তাই দুই দলেরই পেসার-অলরাউন্ডার প্রয়োজন ছিল। নিলামে দেখা গেল, গ্রিনের নাম বলার পর সবচেয়ে আগে হাত তুলেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। যদিও ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার পর মুম্বই সরে যায়। তার পর আসরে নামে কেকেআর। রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে তাদের লড়াই চলছিল। চড়চড় করে দাম বাড়ছিল গ্রিনের। কেউ কাউকে ছাড়ছিল না। কিন্তু ১৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দাম ওঠার পর রাজস্থানও সরে যায়। তখন আসরে নামে চেন্নাই।
বাকি লড়াই কলকাতা ও চেন্নাইয়ের। ২০ কোটি পেরিয়ে যাওয়ার পর বোঝা যাচ্ছিল, বড়ো অঙ্ক পেতে চলেছেন গ্রিন। অবশেষে কেকেআর ২৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বিড করার পর চেন্নাই থেমে যায়। গ্রিনকে কেনে কেকেআর। আইপিএলের নিলামের ইতিহাসে বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে রেকর্ড দাম পেলেন গ্রিন। এর আগে ২৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকায় মিচেল স্টার্ককে কিনেছিল কেকেআর। সেটাই ছিল এত দিন নিলামে কোনও বিদেশির পাওয়া সর্বোচ্চ দাম। স্টার্ককে ছাপিয়ে গেলেন গ্রিন।
যদিও মাত্র ১৩ কোটি টাকা পাবেন গ্রিন। বাকি ১২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বাদ যাবে তাঁর দাম থেকে। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, ছোট নিলামের জন্য ১৮ কোটি টাকার বেশি হাতে পাবেন না কোনও ক্রিকেটার। এর বাইরেও আরও একটি নিয়ম আছে। প্রত্যেক দল যে টাকায় তাদের সবচেয়ে দামি ভারতীয় ক্রিকেটারকে রেখেছে, তার বেশি দাম সেই দলের কোনও বিদেশি ক্রিকেটার পাবে না। কলকাতা নাইট রাইডার্সের সবচেয়ে দামি ভারতীয় ক্রিকেটার রিঙ্কু সিং। তাঁর দাম ১৩ কোটি টাকা। তাই এক্ষেত্রে ১৮ কোটির নিয়ম খাটবে না। সেই কারণেই গ্রিন ১৩ কোটি টাকাই পাবেন। তবে কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজিকে খরচ করতে হবে ২৫.২০ কোটি টাকা।
গ্রিনের পর আরও এক বিদেশি ক্রিকেটারকে চড়া দামে কেনে কেকেআর। শ্রীলঙ্কার জোরে বোলার মাথিশা পাথিরানাকে ১৮ কোটি টাকা দিয়ে ছিনিয়ে নিলেন বেঙ্কি মাইসোর, অভিষেক নায়াররা। পাথিরানাকে নিয়ে লড়াই শুরু হয়েছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের মধ্যে। পাথিরানার দাম ১৬ কোটি টাকা ওঠার পর রণে ভঙ্গ দেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়রা। তার পর আসরে নামে কলকাতা। শেষ পর্যন্ত কলকাতার ১৮ কোটি টাকা দামের সামনে হাল ছাড়তে বাধ্য হয় লখনউ। পাথিরানাকে পাওয়ায় কলকাতার পেস আক্রমণ যথেষ্ট শক্তিশালী হল বলেই মনে করা হচ্ছে।
গ্রিনকে পেয়ে বেঙ্কি মাইসোর বলেছেন, ‘গ্রিনকে পেয়ে আমরা খুশি। খুব ভালো লাগছে। আমাদের পরিকল্পনায় গ্রিন ছিল। ওকে পাওয়ার আশাও ছিল। তবে গ্রিনকে যে দামে পেয়েছি, তাতে আমরা খুশি। অনেক সময় দাম অনেক বেড়ে যায়। তেমন হলে হয়তো অন্য রকম ভাবতে হত। সত্যি বলতে আমরা গ্রিন নিতে আগ্রহী ছিলাম ঠিকই, তবে মরিয়া ছিলাম না।’ মাইসোর আরও বলেন, ‘গ্রিনকে এত দামে কিনতে গিয়ে নিলামের পরবর্তী অংশে আমাদের সমস্যা হবে মনে হলে হয়তো ছেড়ে দিতাম। গ্রিনকে পাওয়ায় আমাদের দল নিঃসন্দেহে শক্তিশালী হবে। তাছাড়া গ্রিন ব্যাট এবং বল হাতে কী করতে পারে, আমরা জানি। আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।’
বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়েও দড়ি টানাটানি শুরু হয়। ২ কোটি টাকা বেস প্রাইস থেকে তাঁকে কেনার চেষ্টা শুরু করে চেন্নাই ও দিল্লি। পরে নিলামে ঢোকে কেকেআর। তাঁকে ৯.২০ কোটি টাকায় কিনে নেয় নাইট রাইডার্স। এছাড়াও ১.৫ কোটিতে টিম সেইফার্টকে কিনেছে কেকেআর। নিলামের শেষ বেলায় আরও কিছু ক্রিকেটারকে কিনল কেকেআর। যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম আকাশ দীপ ও রাচীন রবীন্দ্র। অবশেষে বাংলার কোনও ক্রিকেটারকে দলে নিল কিং খানের ফ্র্যাঞ্চাইজি। এছাড়া বেস প্রাইস ২ কোটিতেই রাচিনকে পেয়ে গেল কলকাতা। কয়েক মরসুম কাটিয়ে আবার কেকেআরে ফিরেছেন রাহুল ত্রিপাঠী। ফিন অ্যালেনকে কেনাও খুব গুরুত্বপূর্ণ নাইট ব্রিগেডের জন্য। তবে ভেঙ্কটেশ আয়ারকে ছেড়ে দিতে হল নাইটদের। তাঁকে কেনার চেষ্টা করেছিল কেকেআর। কিন্তু আরসিবির সঙ্গে নিলামে নাইটদের টেক্কা দেয় তারা।

     

বিজ্ঞাপন

Goto Top