স্প্যানিশ কোচের দাবি, জামশেদপুরের উচিত তাঁদের ভয় পাওয়া।
মোহনবাগান দলের টিম স্পিরিট যেকোনও দলের কাছেই ঈর্ষণীয়। দলে তাবড়-তাবড় ফুটবলারের ভিড়। যার ফলে প্রথম একাদশে সুযোগ পায় না অনেক তারকা প্লেয়ার। কিন্তু নিজেদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হতে দেয়নি। সবুজ-মেরুনের প্রত্যেক প্র্যাকটিসে যার প্রতিফলন ঘটে। মঙ্গলবারও অন্যত্র নয়। একদিন পরই মেগা ম্যাচ। বৃহস্পতিবার টাটার শহরে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের প্রথম লেগ। তারই প্রস্তুতিতে মগ্ন জেমি ম্যাকলারেন, জেসন কামিন্স, দিমিত্রি পেত্রাতোসরা। এদিন বিকেলে হাসিখুশি সবুজ-মেরুন শিবির। মাঝে প্রায় ২৫ দিনের বিরতি। কোনও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ নেই। শুধুমাত্র জাতীয় দলের প্লেয়াররা দুটো ম্যাচ খেলেছেন। বাকিরা ম্যাচ না খেললেও, প্র্যাকটিসের মধ্যে ছিলেন। এদিন শুরুতে স্ট্রেচিং সহ শারীরিক কসরত সারেন বাগানের ফুটবলাররা। বাকিদের সঙ্গে এই সেশনে যোগ দেন আপুঁইয়া। হালকা বল ট্রেনিংও করেন। কিন্তু অনুশীলন করেননি মনবীর সিং। বুধবার সকালে প্র্যাকটিস করে দুপুরের বাসে জামশেদপুর রওনা হবে মোহনবাগান দল। আপুঁইয়া এবং মনবীর দলের সঙ্গে যাবেন কিনা সেটা বুধবারই জানা যাবে।
জামশেদপুরে খালেদ জামিলের দলের বিরুদ্ধে জেতা সহজ নয়। কঠিন প্রতিপক্ষ মেনে নিলেন হোসে মোলিনা। কোয়ালিফায়ারে ভালো পারফরম্যান্সের প্রশংসাও করেন। তবে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ড্র নয়, জয়ের জন্যই ঝাঁপাবে তাঁর দল। সঙ্গে হুঙ্কারও দিয়ে রাখলেন। বাগানের স্প্যানিশ কোচের দাবি, জামশেদপুরের উচিত তাঁদের ভয় পাওয়া। মোলিনা বলেন, ‘কঠিন ম্যাচ। তবে আমরা তৈরি। আমরা কাপ জিততে চাই। ছেলেরা একশো শতাংশ উজাড় করে দেবে। আমরা সবসময় জেতার জন্যই খেলি। ড্রয়ের জন্য না। আশা করছি এবারও আমরা তাতে সফল হব। গোল সংখ্যা আরও বাড়তে পারব। আমার দলের প্রতি বিশ্বাস আছে। আমার মনে হয়, আমাদের নিয়ে ওদের ভয় পাওয়া উচিত। আমরা মোহনবাগান। আমাদের দলে একাধিক ভালো প্লেয়ার আছে। ফাইনালে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য।’
প্রায় এক মাস পরে মাঠে নামবে মোহনবাগান। সেখানে মাঝে নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচ খেলেছে জামশেদপুর। দীর্ঘদিন পর প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ফেরায়, শুরুতে কি মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগবে জেমি, স্টুয়ার্টদের? তেমন মনে করছেন না মোলিনা। বাগান কোচের দাবি, এক মাসের বিরতিতে আমূল পরিবর্তন হয় না। তারমধ্যে একাধিক প্লেয়ার জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেলেছে। যার ফলে খেলার মধ্যেই আছে তাঁরা। সেই কারণে কোনও সমস্যা হবে না। বৃহস্পতিবার বড়ো ফ্যাক্টর খালেদ জামিল। তাঁর মস্তিষ্কের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। জামশেদপুরে তাঁর দলের বিরুদ্ধে জেতা সহজ নয়। তবে মোলিনা জানিয়ে দিলেন, প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিশেষ প্ল্যানিং নেই। বিপক্ষের কোচ নিয়েও মন্তব্য করতে চাইলেন না বাগানের হেডস্যার। মোলিনা বলেন, ‘আমি প্রতিপক্ষের কোচ নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি তাঁকে সম্মান করি। আগের ম্যাচে জামশেদপুর দারুণ খেলেছে। ম্যাচটা সত্যিই কঠিন ছিল। নিজেকে ভালো কোচ প্রমাণ করেছে। তবে আমি প্রতিপক্ষকে নিয়ে কোনওদিনই বিশেষ পরিকল্পনা করি না। আমি নিজের দলেই ফোকাস করব।’ এদিন ছিল সাহাল আব্দুল সামাদের জন্মদিন। হাজির ছিল দুই ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা। প্র্যাকটিস শেষে দুটো কেক কাটা হয়। ফ্যান ক্লাবের পক্ষ থেকে সাহালের হাতে তুলে দেওয়া হয় বার্থডে গিফটও। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মন ভাল করা পরিবেশ বাগানে।